দিতির চলে যাওয়ার দিন

দিতির চলে যাওয়ার দিন। ২০ মার্চ এ দিনটিতে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন বহু বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সফল নায়িকা দিতি। চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতির চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

স্নিগ্ধ রূপের ও অভিনয়ের অালো ছড়ানো দিতি ❤

১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। দিতি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ডাক দিয়ে যাই। কিন্তু ডাক দিয়ে যাই ছবিটি শেষপর্যন্ত মুক্তি পায়নি। অাজমল হুদা মিঠু পরিচালিত অামিই ওস্তাদ সিনেমা ছিল দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র। অামিই ওস্তাদ চলচ্চিত্রে দিতি সাবলীল অভিনয়ে সবার মন জয় করলেন। এরপর অার পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১৯৮৭ সালে স্বামী স্ত্রী ছবিতে অসাধারণ অভিনয় সুবাদে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেন।
১৯৮৮ সাল অাব্দুল্লাহ অাল মামুনের চলচ্চিত্র দুই জীবন। দুই জীবন দিয়ে দিতি অাবারও বাজিমাত করলেন।
এই ছবির অামি একদিন তোমায় না দেখিলে, তুমি অাজ কথা দিয়েছো গান দুটি প্রিয় গান হয়ে গেল সেই সময়ের তারুণ্যের। দিতি-অাফজাল জুটিকে বেশ সাদরে গ্রহণ করলেন দর্শকরা।
সোহেল চৌধুরী-দিতি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হীরামতি। হীরামতি সিনেমা বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়।

দিতি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো-হীরামতি, দুই জীবন, ভাই বন্ধু, উছিলা, লেডি ইন্সপেক্টর, খুনের বদলা, আজকের হাঙ্গামা, স্নেহের প্রতিদান, শেষ উপহার, চরম আঘাত, স্বামী-স্ত্রী, অপরাধী, কাল সকালে, চার সতীনের ঘর, মেঘের কোলে রোদ, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত।
তিনি অসংখ্য নাটক টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন। নাটক পরিচালনার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

সহ-শিল্পী সোহেল চৌধুরীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন।
সোহেল চৌধুরী সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ও তার মৃত্যুর পর বিয়ে করেন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে। দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
চলচ্চিত্রে ইলিয়াস কাঞ্চন-দিতি ছিল দারুণ জনপ্রিয় ও সফল। পর্দায় এই জুটির রসায়ন বেশ নজরও কেড়েছিল। তাদের উল্লেখযোগ্য কাজ ভাইবন্ধু, বাঁচার লড়াই, প্রেমের প্রতিদান, চরম অাঘাত।

দিতি অভিনীত সিনেমার গানগুলো ভীষণ শ্রুতিমধুর ছিল। কালজয়ী সব গান অাজও দর্শক হৃদয়ে লাগে দোলা।
কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো
এ সুখের নেই কোনো সীমানা
তুমি অাজ কথা দিয়েছো
অাজ বড় সুখে দুটি চোখে
অামি একদিন তোমায় না দেখিলে
চিরসবুজ ভালোবাসার গানে অনবদ্য ছিলেন এই নায়িকা।
দিতি ছিলেন ফ্যাশনসচেতন একজন অার্টিস্ট। সিনেমায় তার কস্টিউম সিলেকশন ছিল ভিন্নতা।
২০১৫ সালে দিতির মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন দিতি। প্রিয়দর্শিনী এই নায়িকা অসময়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় না, তোমায় নিয়ে হাজার বছর বাঁচতে বড় ইচ্ছে হয়। মানবজীবন সত্যি ভীষণ ছোট। কী ভীষণ সুন্দর এই বেঁচে থাকা।
স্নিগ্ধ রূপের সৌন্দর্য অার অভিনয় গুণে প্রিয় নায়িকা কোটি হৃদয়ে অাজীবনই বেঁচে থাকবে।

Views All Time
Views All Time
19
Views Today
Views Today
1

Comments

comments

Author: cinemanewsbd

রিয়াদ তানভির রাজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *